দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের লাহোরে আজারবাইজানের ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে মাদক খাইয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের কাছে করা অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়িক কাজে পাকিস্তানে যাওয়া ওই তরুণী শনিবার লাহোরের রাইউইন্ডের ডিফেন্স হাউজিং অথরিটি (ডিএইচএ) এলাকায় এ ঘটনার শিকার হন।
অভিযোগে ওই তরুণী জানান, দুই নারী তাকে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেখানে তাদের সঙ্গে আরও তিন পুরুষ যোগ দেন। খাবার শেষে ওই তিন ব্যক্তি গাড়িতে করে তাকে এবং দুই নারীকে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ওই তরুণীকে একটি অজ্ঞাত অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যান।
সেখানে তাকে মাদকজাতীয় কিছু খাওয়ানোর পর তিন ব্যক্তি তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তরুণী। রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত তাকে আটকে রাখার পর অভিযুক্তরা তাকে গাজী ইন্টারচেঞ্জের কাছে ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তার মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।
লাহোর পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) ফয়সাল কামরান জানিয়েছেন, তিন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কয়েকটি দল কাজ করছে। ঘটনার সময় ব্যবহৃত বলে অভিযোগ করা গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।
ওই তরুণীর অভিযোগ, তাকে রাতের খাবারের আমন্ত্রণ জানানো দুই নারী এবং অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি পরস্পরের বন্ধু। তিনি জানান, তিনি রেস্তোরাঁয় পৌঁছানোর আগেই ওই তিন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মুখ তিনি শনাক্ত করতে পারবেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।
পুলিশ তিন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পাশাপাশি তাদের নাম প্রভিশনাল ন্যাশনাল আইডেন্টিফিকেশন লিস্টে (পিএনআইএল) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় নাম থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ৩০ দিনের জন্য দেশ ছাড়তে পারেন না।
এদিকে লাহোরে সাম্প্রতিক সময়ে যৌন সহিংসতার একাধিক ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে শহরটিতে যৌন নিপীড়নের ১ হাজার ১৮০টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে জুলাই মাসে একই এলাকায় নেদারল্যান্ডসের এক নারী ও ভেনেজুয়েলার আরেক নারীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ দুই ঘণ্টার মধ্যে তাদের উদ্ধার করে এবং পরে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই দুই নারী পাকিস্তানে গিয়েছিলেন মামলার প্রধান সন্দেহভাজন মুহাম্মদ রাজা দারের আমন্ত্রণে। তাদের অভিযোগ ছিল, ২৯ জুন দার ও তার সহযোগীরা তাদের অপহরণ করে, হুমকি দেয়, অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে এবং যৌন নির্যাতন চালায়।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট